মাদরাসা পরিচিতি

মে ১৯, ২০১৯

মাদরাসা পরিচিতিমূলক ভিডিও👆

প্রেক্ষাপট

একটি জাতির প্রধান শক্তি তার শিক্ষা। সেই শিক্ষা যদি শুধু জাগতিক শিক্ষা হয় তাহলে বস্তুগত উন্নতি হয়ত হতে পারে কিন্তু এর দ্বারা কখনো মনুষত্বের উন্নতির আশা করা যায় না। এক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
আমরা মুসলিম জাতি। সত্যিকারের ইসলামী শিক্ষা ব্যতিত আমরা কখনো বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারবো না।
আমাদের দেশে জাগতিক শিক্ষার যতটুকু বিস্তার ঘটেছে ইসলামী শিক্ষার বিস্তার সেই অনুপাতে হয়নি। বস্তুতান্ত্রিক শিক্ষা গ্রহণকারীদের তুলনায় ধর্মীয় শিক্ষালাভকারীদের সংখ্যা অতিনগণ্য। এই কারণেই সমাজে আজ শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও সত্যিকার সৎ মানুষ দুর্লভ হয়ে উঠেছে। দেশে চলছে হত্যা, খুন রাহাজানি আর দূর্নীতির মহাউৎসব। সঠিক ইসলামী শিক্ষার অভাবে তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে। শিক্ষিত মহলে ছড়িয়ে পড়ছে আহলে হাদীস ও মওদূদী ফেৎনা। সমাজের অসচেতন মানুষরা বিভিন্ন ভন্ড ধর্মব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে ঈমানহারা হচ্ছে।
এ অবস্থায় সমাজের সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষার বিস্তার ঘটানো এবং এর মাধ্যমে সমাজ থেকে অপরাধ প্রবণতা দূর করা ও ফেতনার সকল বেড়াজাল ছিন্ন করে মুসলিম উম্মাহকে সরল সঠিক দ্বীনের উপর নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে জহুরুল ইসলাম সিটিতে গঠিত হয় আল জামি‘আতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলূম আফতাব নগর মাদরাসা।


ইদারার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য 

১. আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জন করাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।
২.  তালীম ও তারবিয়্যাতের মাধ্যমে সমাজে সভ্য ও যোগ্য নাগরিক তৈরি করা।
৩.  সাহাবায়ে কেরাম, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, সালাফে সালেহীন ও আকাবীরে উম্মতের আমল ও তাদের গবেষণাপ্রসূত জ্ঞানের আলোকে কুরআন ও সুন্নাহর পরিপূর্ণ শিক্ষাদান।
৪. ইলম ও আমল উভয়ের সমন্বয়ে আকাবীর ও আসলাফের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে দ্বীনের জন্য নিবেদিত প্রাণ মুবাল্লিগ ও মুজতাহিদ গড়ে তোলা।
৫. আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা-দানের মাধ্যমে দ্বীনের সহীহ বুঝসম্পন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব তৈরি করে সারা বিশ্বের দাওয়াত-তাবলীগসহ সকল দ্বীনি প্রয়োজন পূর্ণ করা।
৬. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে যুগ জিজ্ঞাসার জবাবদানে পারঙ্গম ও বর্তমান ইজম-বিভ্রান্ত মানব সমাজের সামনে ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শকে আকর্ষণীয়রূপে তুলে ধরার মত ব্যক্তিত্ব তৈরি করা।

৭. সমাজের সর্ব ক্ষেত্রে দ্বীনি তাকাযা পূরণার্থে খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার জন্য দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত কিছু সুনাগরিক তৈরি করা।

ইদারার বিভাগসমূহ
বর্তমানে অত্র জামি‘আর মকতব বিভাগ, হিফয বিভাগ, কিতাব বিভাগ, ইফতা, উলূমুল হাদীস ও দাওয়া বিভাগ নামে ছয়টি বিভাগ চালু আছে। এ বিভাগগুলোতে অত্যন্ত সফলতা ও স্বার্থকতার সাথে অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার কাজ চলছে।
নিম্নে এ বিভাগগুলোর সামান্য বিবরণ তুলে ধরা হল।


১. মকতব বিভাগ। এ বিভাগে বিশেষ ট্রেনিংপ্রাপ্ত দক্ষ মুয়াল্লিম দ্বারা শিশু শিক্ষার্থীদের কায়দা, আমপারা ও কুরআনে কারীমের বিশুদ্ধ তিলাওয়াতসহ জরুরী মাসায়েল, হাদীস ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক বাংলা, অংক শিক্ষা দেওয়া হয়। এ বিভাগে আবাসিক ও অনাবাসিক দুটি শাখায় শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।


২. হিফয বিভাগ। এ বিভাগে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ হাফেয সাহেবদেও পূর্ণ তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ মুখস্থ করানো হয়। মক্তব বিভাগে উত্তীর্ণ যে কোন ছাত্র এ বিভাগে ভর্তি হতে পারে।


৩. কিতাব বিভাগ। এ বিভাগে মোট পাঁচটি স্তর রয়েছে। যথা :-
১) ইবতিদায়ী বা প্রাইমারী (পঞ্চম শেণী)।
২) মুতাওয়াসসিতাহ বা মাধ্যমিক স্তর।
৩) ছানাবিয়াহ বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তর।
৪) ফযীলত বা স্নাতক স্তর।
৫) তাকমীল বা দওরায়ে হাদীস বা স্নাতকোত্তর স্তর।
মক্তব বিভাগ বা হিফয বিভাগে উত্তীর্ণ যে কোন ছাত্র ধারাবাহিক ১০ বছরে এ পাঁচটি স্তরের শিক্ষাকোর্স শেষ করে একজন আলেম হতে পারে।


৪. ইফতা বিভাগ। তথা উচ্চতর ইসলামী ফিকহ বা আইনশাস্ত্র বিভাগ।
এটি প্রতিষ্ঠানের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। কিতাব বিভাগ থেকে দাওরায়ে হাদীসে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ ছাত্ররা কেবল এ বিভাগে ভর্তি হতে পারে। সুদক্ষ মুফতী ও ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত। এ বিভাগে ছাত্রদেরকে ফিকহের যাবতীয় মাসআলা-মাসায়েল বের করা ও সমাজে সৃষ্ট সমস্যাবলীর শরীয়াহ ভিত্তিক সমাধান দেওয়ার
প্রশিক্ষণ দেয়া হয়


৫. তাখাসসুস ফিল হাদীস বিভাগ। হাদীসে নববীর শুদ্ধতা যাচাই, মান নির্ণয় ও হাদীসের আলোকে ফিকহের চার মাযহাবের উপর গবেষণা ও নিরিক্ষণমূলক বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জনসহ সমকালীন নানাবিধ ফেৎনার তাত্বিক সমাধানকল্পে হাদীসভিত্তিক প্রমাণ্য হানাফী মাযহাবের কিছু হাদীসবিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্ব গড়ার লক্ষ্যে এ বিভাগ খোলা হয়েছে। দাওরায়ে হাদীস বা যে কোন গবেষণামূলক বিভাগের মুমতাজ (এ প্লাস) মানে উত্তীর্ণ অল্প সংখ্যক ছাত্ররা কেবল এ বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। দু-বছর মেয়াদী এ বিভাগ একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত জরুরী ও গবেষণার ক্ষেত্রে অনেক ব্যয়বহুল।


৬. দা’ওয়াহ বিভাগ। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সহীহ আক্বীদা ও আমলের উপর বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করে সমকালীন সর্বপ্রকার বাতিল ফেরকা ও ফেৎনার গবেষণামূলক সমাধান ও প্রশিক্ষণের জন্য এ বিভাগ। এটি প্রতিষ্ঠানের একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। দাওরায়ে হাদীসে উত্তীর্ণ ভাল মানের ছাত্ররা এতে ভর্তি হতে পারবে।

লাইব্রেরী ও পাঠাগার

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবেষণামূলক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সিংহভাগই নির্ভরশীল একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী ও পাঠাগারের উপর। আমাদের উপরোক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সুসমৃদ্ধ লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। বর্তমানে আমাদের লাইব্রেরীতে বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় চার লক্ষ টাকার দীনি কিতাব রয়েছে।

প্রশিক্ষণমূলক কর্মকান্ড

এছয়টি মৌলিক বিভাগের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে সমাজের সর্বস্তরে দ্বীনী খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার জন্য যোগ্য হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত চারটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যথা:

ক) ভাষা সাহিত্য ও লেখনীর প্রশিক্ষণ: ছাত্রদেরকে একজন বলিষ্ঠ কলমসৈনিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিতাব বিভাগে পড়ার পাশাপাশি বাংলা, আরবী ও ইংরেজী তিনটি ভাষায় বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ, গল্প ও ছড়া কবিতা লেখালেখির যোগ্যতা অর্জনের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সহায়ক হিসেবে ছাত্রদের দ্বারা বাংলা, আরবী ও ইংরেজী তিন ভাষায় তিনটি দেয়ালপত্রিকা প্রকাশিত হয়। সেই সাথে গবেষণালব্ধ রচনা তৈরি করা, সম্প্ৰতিকালে সৃষ্ট নতুন নতুন সমস্যাবলীর বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য সমাধানমূলক ছোট-বড় গ্রন্থ ও পুস্তিকা রচনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। 

খ) বক্তৃতা প্রশিক্ষণ: ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা উম্মতের সামনে তুলে ধরা একজন হক্কানী আলেমের অন্যতম দায়িত্ব। জনসম্মুখে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করার অভ্যাস না থাকলে এ কাজ অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই একজন দ্বীনী শিক্ষার্থী যেন প্রথম থেকেই বাংলা, আরবী ও ইংরেজী ভাষায় বক্তৃতা প্রদানের অভ্যাস করে ধীরে ধীরে একজন সুদক্ষ বাগ্মী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সে উদ্দেশ্যে সুদক্ষ উস্তাদের তত্বাবধানে ছাত্রদেরকে বক্তৃতা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। 

গ) দাওয়াত ও তাবলীগ: মাদরাসার তত্বাবধানে নিজ মহল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাওয়াত ও তাবলীগের খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার জন্য ছাত্রদের জামাত পাঠিয়ে শুরু থেকেই একজন সুদক্ষ দায়ী হিসেবে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয় । 

ঘ) তাযকিয়ায়ে নফস বা আত্মসুদ্ধি: একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার জন্য পড়ালেখা ও সকল কাজের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্ব রাখে। তাই প্রত্যহ বাদ আসর ছাত্রদেরকে সাহাবায়ে কেরাম ও বুজুর্গানে-দ্বীনের ঘটনা, মালফুযাত ও মাওয়ায়েযের তালিম দেওয়া হয়। 
প্রতি ইংরেজী মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব থেকে কোন সাহেবে-নিসবত বুজুর্গের তত্বাবধানে ইসলাহী মজলিস ও শবগুজারী করা হয়। এতে আগ্রহী সকল স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি ও মাদরাসার ছাত্র এবং সাধারণ দ্বীনদার ভাইদের অংশগ্রহণের সুযোগ ও সুব্যবস্থা থাকে।

উল্লেখ্য যে, এটি একটি সম্পূর্ণ বেসরকারী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। আল্লাহর দ্বীনের প্রচার-প্রসার ও প্রতিষ্ঠা করাই এর একমাত্র লক্ষ্য। এ জাতীয় সকল প্রতিষ্ঠানই দ্বীন-দরদী মুসলমান ভাইদের আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। তাই আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে আপনিও হতে পারেন এ মহাউদ্যোগের একজন অংশিদার। আপনার নেক দু‘আর মাধ্যমেই আল্লাহ তা‘আলা আমাদের চলার পথকে সুগম করবেন। আর্থিক অনুদানে শরীক হতে আগ্রহীদের সুবিধার্থে এ প্রতিষ্ঠানের ৪টি আলাদা ফান্ড রয়েছে। যথা :-
১. সাধারণ ফান্ড। সবধরণের সাধারণ দান এ ফান্ডে জমা করা হয়।
২. গোরাবা ফান্ড।যাকাত, সদকা, কাফফারাহ এ ফান্ডে জমা করা হয় এবং উপযুক্ত গরীব-ইয়াতীম মেধাবী ছাত্রদের লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহে তা খরচ করা হয়।
৩. কুতুবখানা বা লাইব্রেরী সমৃদ্ধকরণ ফান্ড। যারা লাইব্রেরীর প্রয়োজনীয় দ্বীনি কিতাব ক্রয় করে দিয়ে সারা জীবন সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব হাসিল করতে আগ্রহী তাদের দান এ ফান্ডে জমা হয় এবং শুধু কিতাব ক্রয় খাতেই তা খরচ হয়।
৪. উন্নয়ন ও নির্মাণ ফান্ড। জামি‘আর স্থায়ী জায়গা ক্রয় ও যাবতীয় উন্নয়ন এবং নির্মাণের জন্য প্রদেয় অনুদান এ ফান্ডে জমা ও খরচ হয়। আগ্রহী যে কোন ব্যক্তির জন্য কিংবা ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে এ মহতি উদ্যোগে শরীক হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মাদরাসার একাউন্ট নাম্বার                                                                                                          
আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, প্রগতি স্মরণী বাড্ডা শাখা                                                                
আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলূম ঢাকা                                                                          
একাউন্ট নং : ০৪৫১১২০০৬০৫৮৪                                                                                       

নিবেদক
(মুফতী) মোহাম্মদ আলী
মুহতামিম, অত্র মাদরাসা
মোবাইল: ০১৭১২২২৩৯২৬ 

মাদরাসা সম্পর্কে আরো বিস্তারত জানতে নিচের লিংকগুলোতে ক্লিক করুন
মাদরাসার ছাত্রদের কিছু সম্মিলিত ‍ছবি    
মাদরাসার শুভাকাঙ্খিদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ

Blogger দ্বারা পরিচালিত.