হযরত মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ আলী (দা. বা.) : সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য
ইদারার প্রতিষ্ঠাতা ও শাইখুল হাদীস আওলাদে রাসূল সায়্যিদ মাহমূদ আসআদ মাদানী (দা. বা)-এর সুযোগ্য খলিফা হযরত মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ আলী (দা. বা.)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
যুগে যুগে যে ক্ষণজন্মা মনীষীগণ পথহারা মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে ও কুরআন-সুন্নাহর আলো সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে দিতে নিজের জীবনকে বিলীন করে দিয়েছেন তাদেরই অন্যতম একজন হলেন আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলূম আফতাবনগর ঢাকা-এর প্রতিষ্ঠাতা, মুহতামিম আওলাদে রাসূল সায়্যিদ মাহমূদ আসআদ মাদানী (দা. বা) এর সুযোগ্য খলীফা, মুফাক্কিরে ইসলাম হযরত মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ আলী (দা. বা)
পথহারা উম্মার সঠিক পথের দিশারী, জাতির দরদী অভিভাবক এই মনীষীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিম্নে তুলে ধরা হলো।
জন্ম :
তিনি ১৯৬৪ সালে নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার অন্তর্গত নামাগুতাশিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মাওলানা হানিফ ফরাজী (রহ.) এবং মাতা মোসাম্মৎ রাজিয়া খাতুনের নিবিড় তত্ত্বাধানে তার শৈশবকাল অহিবাহিত হয়।
শিক্ষাজীবন :
স্বীয় আম্মাজানের নিকট তার শিক্ষা জীবনের হাতে খড়ি। তার কাছে তিনি কুরআনুল কারীমের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত, জরুরী মাসআলা-মাসাইল ও উর্দূ প্রাথমিক কিতাবাদি শিক্ষা করেন। স্কুলের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন পাঁচকান্দী ও নামাগুতাশিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্কুলে অধ্যায়নকালেও তিনি ইসলামী লেবাস-টুপি-পাঞ্জাবী পরে স্কুলে যেতেন। এতে তিনি সকল শিক্ষকদের স্নেহের পাত্র হয়ে উঠেন।
মাদরাসা শিক্ষার সূচনা হয় মির্জাপুর আশরাফুল উলূম মাদরাসায়। সেখানে তিনি ইবতেদায়ী জামাত থেকে হেদায়াতুন্নাহু জামাত পর্যন্ত অধ্যায়ন করেন।
পরবর্তীতে ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ মাদরাসায় কাফিয়া ও শরহেজামী জামাত অধ্যায়ন করেন। কাফিয়া জামাতে প্রথম স্থান অধিকার করে আসাতিজায়ে কেরামের সুনজর করেন। এরপর তিনি জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ মাদরাসায় শরহে বেকায়া থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত কওমী মাদরাসার নিয়মতান্ত্রিক পড়া-শুনা সমাপ্ত করেন।
দারুল উলূম দেওবন্দ গমন :
জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ মাদরাসায় দাওরায়ে হাদীস সমাপন করে তিনি বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপিঠ দারুল উলূম দেওবন্দ ভারত গমনে করেন। এবং সেখানেই তিনি ইফতা বিভাগে অধ্যায়নরত অবস্থাতেই কুরআনুল কারীম মুখস্থ্য করেন।
শিক্ষকমন্ডলী :
দেশে ও দেশের বাইরে জামিয়া, মালিবাগ, ফরিদাবাদ মাদরাসা ও দারুল উলূম দেওবন্দের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে পড়া-শোনার সুবাদে তিনি দেশ বরেণ্য অসংখ্য উলামায়ে কেরামের শিষ্যত্ব অর্জনের ধন্য হন। নক্ষত্রতুল্য সেসব মহান উস্তাদদের মধ্য থেকে নিম্নে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হলো।
বাংলাদেশ : আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ (রহ.)। আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ (দা.বা.)। আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী (দা.বা.)। আল্লামা আব্দুল হাফিজ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।
দেওবন্দ : মুফতী মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী (রহ.)। মাও. নাসির খাঁন (রহ.)। মাও. আব্দুল হক আজমী (রহ.)। মাওলানা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী ও আল্লামা কমারুদ্দীন সাহেব (দা.বা)।
কর্মজীবন :
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি জামিয়া মাদানিয়া রাজফুল বাড়ীয়া সাভার মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে আত্মনিয়োগ করেন। এরপর শেখ জনুরুদ্দীন (রহ.) দারুল কুরআন চৌধুরীপাড়া মাদরাসায় দীর্ঘ ৭ বছর সুনাম ও সুখ্যাতির সাথে হাদীসের দরসসহ অধ্যাপনার খেদমত আঞ্জাম দেন।
অতঃপর জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগে মুহাদ্দিস ও সহকারী মুফতী হিসাবে যোগদান করেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ নয় বছর অত্যান্ত সুনাম ও সুখ্যাতির সাথে তালিমের খেদমত আঞ্জাম দেন। সেইসাথে মীরবাগ জামে মসজিদে দীর্ঘ সাত বছর ইমামতের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি দক্ষিণ শাহাজাহানপুর মসজিদে বার বছরের অধিক সময় খতিব হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
এরপর ২০০৬ সাল থেকে ১০ বছর পর্যন্ত জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়াতে প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম ও মুহাদ্দিস হিসেবে খেদমত করেন। পাশাপাশি জামিয়া ইসলামিয়া আযমিয়া দারুল উলূম বনশ্রী মাদরাসায় এক বছর শায়খুল হাদীস হিসেবে হাদিসের খেদমত আঞ্জাম দেন।
২০১০ সালে আল-জামিআতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলূম আফতাবনগর মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে তার কর্মময় জীবনের নতুন অধ্যায়নের সূচনা হয়। অদ্যবধি সেখানে তিনি মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস হিসেবে দীর্ঘ ৯ বছর যাবৎ স্বীয় দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়াও তিনি ১৯৯৩ সালে নিজ বাড়িতে বাঘিবাড়ী হানিফিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা করেন। এবং সেখানে তিনি সদরে মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস হিসেবে স্বীয় দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি জামিয়া ইক্বরা বাংলাদেশেও বিগত ৮ বছর যাবৎ হাদীসের দরস দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনীয়ার সূচনালগ্ন থেকে মহাসচিব এবং আল হাইয়াতুল উলইয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
বিবাহ শাদী :
তিনি ১৯৯০ সালে নরসিংদী জেলার প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন ও ওয়ায়েজ মাওলানা আব্দুর রহমান ফরাজী সাহেবের দ্বিতীয় কন্যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
সন্তান-সন্তাতি :
তিনি তিন কন্যার জনক। তিন কন্যার মাঝে প্রথম কন্যার জামাতা মাও. বশীরুল্লাহ কাসেমী (দা. বা.) (মুহাদ্দীস ও নাযেমে তা’লিমাত, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলূম ঢাকা। ইমাম জহুরুল ইসলামিয়া সিটি কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, আফতাবনগর ঢাকা।) দ্বিতীয় কন্যার জামাতা মুফতী আরিফুল ইসলাম সাহেব (সহকারী মুফতী জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ ও মুহাদ্দিস আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলূম ঢাকা।)
বাইয়াত ও খেলাফত :
দাওরায়ে হাদীসের বছরই তিনি ফেদায়ে মিল্লাত সায়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)এর হাতে বাইয়াত হন। ও তার দীর্ঘ সাহচর্য লাভ করেন। এবং পরবর্তীতে ফেদায়ে মিল্লাত (রহ.)এ জানেশীন সায়্যিদ মাহমুদ আসআদ মাদানী (দা. বা) এর কাছ থেকে খেলাফত লাভ করেন।
তার কীর্তিসমূহ :
ফেকহী সেমিনার : ইসলামের আলোকে বিভিন্ন যুগসমস্যার সমাধানে উলামায়ে কেরামের সমন্বিত আলোচনার বিকল্প নেই। তাই দৈনন্দিন ঘটয়মান নিত্য-নতুন জটিল সমস্যাগুলোর সমাধানে শরীঅতের বিধি-বিধানকে জনসম্মুখে সুস্পষ্ট করে তোলার জন্য তিনি যুগান্তরকারী একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যেমন মিডিয়ায় উলামায়ে কেরামের অংশগ্রহণ, হুরমতে মোসাহারা, তাফবীযে তালাক ইত্যাদি বিষয়ে হযরত একাধিকবার ফেকহী সেমিনার আয়োজন করেন। হযরতের উদ্যোগে আয়োজিত এই ফেকহী সেমিনারসমূহ বাংলাদেশের বিজ্ঞ মুফতীয়ানে কেরাম ছাড়াও বহির্বিশ্বের বিজ্ঞ মুফতীয়ানে কেরামও অংশগ্রহণ করেন। হযরতের এই যুগান্তকারী নব্য পদক্ষেপে বাংলাদেশের ইলমী অঙ্গনে এক নবদিগন্তের সূচনা হয়।
মাদরাসা প্রতিষ্ঠা : তিনি তাঁর ব্যস্তময় কর্মজীবনে বেশকিছু মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :
১। আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলূম আফতাবনগর মাদরাসা ঢাকা।
২। জামিয়া ইসলামিয়া হানীফিয়া বাঘিবাড়ী, নরসিংদী।
৩। জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া, ঢাকা।
৪। দারুল উলূম মাদানিয়া, লালমনিরহাট।
৫। মদীনাতুল উলূম, আড়াইহাজার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
দাওয়াতি কার্যক্রম : কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাদিয়ানী ও খ্রিষ্টান মিশনারী এর ধোঁকায় পড়ে ঈমানহারা মুসলমানদের জন্য অত্যান্ত ব্যথিত ও বিচলিত ছিলেন। তখন থেকেই তিনি সেসব এলাকায় দাওয়াতি সফর শুরু করেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দরদমাখা দাওয়াতের ফলে রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ইত্যাদি অঞ্চলের অসংখ্য পথহারা মানুষ সঠিক পথে ফিরে আসে। তার একান্ত প্রচেষ্টায় উত্তরবঙ্গে বেশকিছু দ্বীনি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয়। উম্মতের একনিষ্ঠ দরদী অভিভাবক হিসেবে এখনও তিনি সময় সুযোগ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দাওয়াতি সফরে বেন হন।
বহির্বিশ্বে দাওয়াতের ময়দানেও রয়েছে তার অবাধ পদচারণা। বিশেষতঃ সাউথ আফ্রিকায় হযরত একাধিকবার দাওয়াতি সফরে বের হন। সেখানকার মুসলমানদের দ্বীনি জীবন যাপনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ইসলাহী প্রোগ্রাম করেন।
এছাড়াও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য দায়ী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং সব ধরণের ফেৎনাকে মোকাবেলা করে সবার মাঝে দাওয়াতের ময়দানকে বিস্তৃত ও সুসংহত করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তিনি স্বীয় প্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলূম আফতাবনগর মাদরাসায় দাওয়া বিভাগ চালু করেন। এ বিভাগ থেকে প্রতিবছর বেশ কিছু নবীন প্রতিভাবান আলেম যোগ্য দায়ী হিসেবে কর্মের ময়দানে আত্মনিয়োগ করছেন। এছাড়াও এ বিভাগের ছাত্র-উস্তাদগণ বছরে দু’বার কাদিয়ানী ও খ্রিষ্টান মিশনারী কবলিত এলাকায় দাওয়াতি সফরে বের হন। তাদের ইখলাস ও লিল্লাহিয়্যাতের বরকতে এ যাবৎ অসংখ্য ঈমানহারা মুসলমান পুনরায় কালেমা পড়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে ফিরে আসে। এবং অনেক অমুসলীম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
আত্মশুদ্ধিমূলক কার্যক্রম :
হযরতের তত্ত্বাবধানে আফতাবনগর মাদরাসায় প্রতি ইংরেজী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ইসলাহী মজলিস ও শবগুজারী অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ইসলাহী মজলিসে তিনি শ্রোতাদের সামনে আত্মশুদ্ধিমূলক বয়ান পেশ করেন। প্রতি বছর তিনি আফতাবনগর মাদরাসা ও বাঘিবাড়ী মাদরাসায় তিনদিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমধর্মী ইসলাহী ইজতিমার আয়োজন করেন। তিনদিন ব্যাপি এই ইজতেমাগুলোতে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন ও নিজেদের ঈমান আমলের উন্নাতি সাধন করেন। এবং দৈনন্দিন জীবন যাপনে প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েলও শিক্ষা গ্রহণ করেন।
জনসেবামূলক কার্যক্রম :
তিনি ২০০৪ সালে খেদমতে খালক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে তিনি অসংখ্য দুঃস্থ, অসহায় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে আক্রান্ত মানুষের প্রতি আর্থিক, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি বি-বাড়িয়ায় টর্নেডো পরবর্তী দূর্যোগকালে দুঃস্থ মানুষের মাঝে ত্রান বিতরণ করেন। উত্তরবঙ্গে বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে ত্রান বিতরণ করেন। এবং মিয়ানমার থেকে বৌদ্ধ হিংস্র নরপশুদের নির্যাতনের কবল থেকে স্বদেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী নিঃস্ব রোহিঙ্গা মুসলীমদের প্রতি তিনি সাধ্যানুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়ান, এবং লক্ষ লক্ষ টাকা তাদের মাঝে বিতরণ করেন।
সম্বলহীন এসব মুসলমানদের ঈমান ও আমলকে খ্রিষ্টান মিশনারীদের ধর্মীয় আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার জন্য রোহিঙ্গা কেম্পে পনেরটিরও অধিক মক্তব মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এতে শত শত রোহিঙ্গা মুসলিম বালক-বালিকারা কোরআন ও ইসলামী শিক্ষার্জন করে যাচ্ছে।
রচনাবলী :
(১) ফাতওয়ায়ে আলমগীরীর অনুবাদ (আংশিক)।
(২) বিশ্বকোষ (প্রবন্ধমালা ও অনুবাদ)।
(৩) সীরাতে রাসূলে আ’জম।
(৪) নামায মিরাজুল মুমিনীন।
(৫) ফাতওয়া ও মাসায়েল।
(৬) মুমিনের সম্বল।
(৭) সত্যের দিশারী (৩খ-)
(৮) ইসলাহী বয়ান।
